রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি এক ডিক্রির মাধ্যমে এ স্বীকৃতি প্রদান করেন। এদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফ্যাবিয়াস বলেছেন, ক্রিমিয়া ইস্যুতে অস্থিরতায় জি-৮ থেকে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। পুতিন পার্লামেন্টে এক ভাষণে বলেছেন ক্রিমিয়া সবসময় রাশিয়ার অংশ। এএফপি, বিবিসি ও রেডিও তেহরান।
পুতিনের এ ঘোষণা সোমবার মস্কোর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কার্যকর করা হয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়ার রাশিয়ায় যোগদানের বিষয়টি পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন। এ পদক্ষেপ উপদ্বীপটির রাশিয়ায় যোগদানের বিষয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। অপরদিকে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের স্পিকার ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ভ্যালেন্তিনা ম্যাতভিনেঙ্কো।
ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়ার স্বাধীনতার স্বীকৃতি বিষয়ক একটি আদেশে সই করার পর ক্রিমিয়ার রাশিয়ায় যোগদানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। ক্রিমিয়ার জনগণ ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দেয়ার পর পুতিন এ ডিক্রি জারি করেন। ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্রিমিয়ার জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রজতন্ত্রটিকে স্বাধীন দেশের মর্যাদা দিয়েছেন।
এদিকে, লরেন্ট ফ্যাবিয়াস ইউরোপ-১ রেডিওকে বলেছেন, ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে জি-৮ ভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া বাদে গ্র“পের অপর ৭টি দেশের এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে গ্র“পের ৭টি দেশ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত গণভোটে ৯৬.৫৬ শতাংশ ক্রিমিয়ার মানুষ রাশিয়ার যোগদানের পক্ষে তাদের মতামত প্রদান করে। এরপর ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু ইউক্রেন এ গণভোট মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ২১ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১১ কর্মকর্তার সম্পদ আটকসহ তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ইস্যু করা হবে না বলে নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়। ক্রিমিয়ার গণভোট নিয়ে শীতল যুদ্ধের পর রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের টানাপোড়েন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পরপরই ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে এক বৈঠকে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় অন্তত ২১ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ ছাড়া, মার্কিন সরকার আলাদাভাবে রাশিয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের কয়েকজন রুশপন্থী নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ক্রিমিয়া বিষয়ে ডিক্রি জারি করার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের দু’কক্ষেই ভাষণ দিয়েছেন। এ ভাষণে ক্রিমিয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় রুশ কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউয়ের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন।
রাশিয়ার নিউজ ওয়েবসাইট ‘গেজেটা.রু’ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিন ও ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার ভদিমির কনোস্টান্টিনভ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রাশিয়ান ফেডারেশনে ক্রিমিয়ার যোগদানের বিষয়ে শিগগির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ম্যাতভিয়েঙ্কো বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেছেন, তিনিসহ রাশিয়া, ক্রিমিয়া ও ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর আরোপিত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এমনকি শীতল যুদ্ধের সময়ও মার্কিন সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ম্যাতভিয়েঙ্কো বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক প্রতারণা। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভালো করে জানে বিদেশে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সম্পদ নেই। তিনি বলেন, আমি সব সময় রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। পশ্চিমাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোমবার এক নির্বাহী আদেশে ম্যাভিয়েঙ্কোসহ রাশিয়া, ক্রিমিয়া ও ইউক্রেনের ১১ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়ার আলাদা হয়ে যাওয়া ঠেকাতে না পেরে ক্ষুব্ধ ওবামা এ সিদ্ধান্ত নেন।

No comments:
Post a Comment