দর্পণ ডেস্ক -
রোববারও সারাদিন পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ালেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস। পায়ে হেঁটেই তিনি যোগ দেন প্রবাসীদের নানা কর্মসূচিতে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে জ্যাকসন হাইটসে হাঁটতে হাঁটতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের কোনো রাস্তায় হাঁটছি।’
প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার কথা বলেন। তার দেশ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে, সহযোগিতা দেবে বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশ যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে পারে, পুরো এশিয়ায় ব্যবসা ও বিনিয়োগের অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে সে কাজে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে।’
ড্যান মজিনা নিজেকে সব সময়ই ‘সেতুবন্ধ রচনাকারী’ বলে মনে করেন। এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।’ আর এ ম্যান্ডেট নিয়েই ২০০৯ সালে তিনি রাষ্ট্রদূতের হয়ে বাংলাদেশে যান বলেও জানান।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অনেক গভীর ও শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত।
টানা দুদিন নিউইয়র্কে ম্যারাথন মিটিং করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। মার্কিন দূতাবাসের ‘পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি’ আওতায় ড্যান মজিনার এ কর্মসূচি সরকারি কর্মসূচি। একথা জানিয়েছে খোদ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ড্যান মজিনার এ মিশন দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা জল্পনারও জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশীয় বিভাগীয় আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর মি. এরিক আইডা জানিয়েছেন, ড্যান মজিনা ১০ দিনের কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের পর টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ায়ও যাবেন। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে প্রতিদিনই মজিনা অক্লান্ত সভা করে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদশিদের সঙ্গে। ‘বাংলাদেশকে সত্যিই খুব ভালবাসেন রাষ্ট্রদূত মজিনা’ এই কর্মকর্তা বললেন।
রোববার সকালে উডসাইডের গুলশান টেরেসে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক, দুপুরে আমেরিকা বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিসের আয়োজনে একই স্থানে মধ্যাহৃভোজ ও সভা, এরপর পায়ে হেঁটে বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দেখা, বিকেলে শিগগিরই সম্প্রচারিতব্য টাইম টেলিভিশন স্টুডিওতে বিশেষ মতবিনিময় এবং সন্ধ্যায় ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের আয়োজনে নৈশভোজ ও মত বিনিময়সভায় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা।
জ্যাকসন হাইটসে মান্নান গ্রোসারি, খামারবাড়ি, খাবার বাড়ি, অবকাশ, ফুডকোর্ট ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খোলা রাস্তায় হকারদের ব্যবসার খোঁজ খবর নেন রাষ্ট্রদূত। এসময় তিনি বাংলাদেশি বিভিন্ন শাক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পর্কে যেমন জানতে চান তেমনি রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তিনি অনেক রসিকতাও করেন। পথে থেমে থেমে বাংলাদেশের গল্প করেন, যেমন বরিশালের ভালোলাগা, কূয়াকাটার গল্প, দিনাজপুরের লিচু, পাবনার চিনিগুঁড়া চাল আর ইলিশ মাছের গল্প।
কিছু সময় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় তিনি বলেন, চাকুরি থেকে অবসরের পর তিনি বাংলাদেশ বেড়িয়ে দেখবেন। বরিশালে যাবেন। বাংলাদেশ সত্যিই ভীষণ সুন্দর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে এসে মনে হয়েছে তিনি তার নিজের মানুষের কাছে এসেছেন।

No comments:
Post a Comment