স্টাফ রিপোর্টার-
তাজরীন ফ্যাশনসের
চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারের জামিন বাতিল করে ১৫ দিনের মধ্যে তাকে হাকিম আদালতে
আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
এছাড়া জামিনের বিষয়ে পদ্ধতিগত
ত্রুটির কারণে দুই বিচারিক হাকিমের কাছে বাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের
পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি করে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মজিদ
বৃহ্পতিবার এই আদেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু বকর ফরহাদ বলেন, “মুখ্য বিচারিক হাকিম ইসমাইল হোসেন
এবং জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাজুল ইসলামকে জেলা ও দায়রা জজ কারণ দর্শাতে বলেছেন।”
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে
গিয়ে তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গত ৯ ফেব্রুয়ারি
কেবল হাজতি পরোয়ানা দিয়ে মাহমুদাকে কারাগারে পাঠান। পরদিনই মুখ্য বিচারিক হাকিম তার
জামিন মঞ্জুর করেন। এতে পদ্ধতিগত ত্রুটি হয়েছে বলে জেলা ও দায়রা জজ মনে করছেন।
২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১২ জন নিহত এবং
দুই শতাধিক শ্রমিক আহত ও দগ্ধ হন।
ওই ঘটনার মামলায় গত ২২
ডিসেম্বর তাজরীণ চেয়ারম্যান মাহমুদা, তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির
ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়
সিআইডি, যাতে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩০৪ (ক) ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধজনক নরহত্যা’ ও ‘অবহেলার কারণে মৃত্যুর’অভিযোগ আনা হয়।
দেলোয়ার ও তার স্ত্রী
মাহমুদা ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাজুল ইসলাম
তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরদিন ঢাকার মুখ্য
বিচারিক হাকিম ইসমাইল হোসেন শর্তসাপেক্ষে মাহমুদাকে জামিন দিলেও দেলোয়ারের আবেদন
নাকচ করেন।
দেলোয়ার পরে জজ আদালতে
গিয়েও জামিন পেতে ব্যর্থ হন।
রাষ্ট্রপক্ষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি
জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মাহমুদার জামিন বাতিলের আবেদন করে বলে, এই
আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাদের অবহেলার কারণে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা
ঘটেছিল। তারা জামিন পেলে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে পারেন। এ জন্য জামিন বাতিল হওয়া জরুরি।
গত ১৩ মার্চ এ আবেদনের
ওপর শুনানি শেষে বিচারক আদেশের জন্য ২০ মার্চ দিন ঠিক করে দেন।

No comments:
Post a Comment