সঠিক পরিচর্যা ও
সংশোধনের ইচ্ছায় মানুষ নিজেকে কতোটা পরিবর্তিত করতে পারে, তারই যেন নজির এই ঘটনা। শতাধিক
ফৌজদারি অপরাধের দায়ে কৈশোরে যার নামে পুলিশের খাতায় উঠেছিল, সেই নাটালি অ্যাটকিনসনই সংশোধিত হয়ে অপরাধবিজ্ঞানে
পেয়েছেন প্রথম শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি। যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস’ ২৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ তরুণীকেই চলতি বছরের সেরা শিক্ষার্থী ঘোষণা
করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি নিউজবিট।
স্কুল ছাড়ার পর ল্যাঙ্কাস্টারের সেই কিশোরীর ঠাঁই হয়েছিল কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে। স্নাতক পরীক্ষায় নাটালি পেয়েছেন ৯৫ শতাংশ নম্বর। অথচ ঘন ঘন নানা অপরাধে জড়িয়ে তাকে এতোবার জেলে যেতে হয়েছিল যে ১২ বছর বয়সে তাকে স্কুল থেকেই বের করে দেয়া হয়েছিল।
নাটালি জানান, ওই বয়সে তিনি অধিকাংশ অপরাধে জড়িয়েছিলেন অ্যালকোহলের প্রভাবে, মাতাল অবস্থায়। বার বার জেলে যাওয়ার দিনগুলোতে পুরো পৃথিবীর ওপরই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। ওই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন না।
তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট সহযোগিতাও তিনি সে সময় পাননি।
“যখনই আমাকে জেলে যেতে হয়েছে, তারা আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ দেখানোর চেষ্টা করেছে। কেন আমি ওসব করছি তা কেউ বোঝার চেষ্টা করেনি। অথচ আমি তখন কেবল একজন ক্ষুব্ধ কিশোরী।”
নাটালির ভাষায়, ভাল হওয়ার জন্য কোনো সহায়তা তিনি জেলখানায় পাননি। বরং জেলে থাকার দিনগুলোতে তিনি আরো বেশি হতাশা আর নেশায় ডুবেছেন, নিজের ক্ষতি করেছেন। শেষ পর্যন্ত যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তিনি নতুন করে জীবনে ফেরার কথা ভেবেছেন।
“বার বার একই ধরনের জটিলতায় জড়িয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, এসব অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে পারলে হয়তো তাদের উপকার হবে।”
এমনকি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়েও সংশয়ে ছিলেন নাটালি। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিমিনোলজি বিষয়টির সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং বিষয়টি তার প্যাশনে পরিণত হয়, কারণ ততোদিনে অপরাধ ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছুই তার জানা হয়ে গেছে।
দুর্বিষহ হয়ে ওঠা সেই জীবনকে পেছনে ফেলে নাটালি ‘পুলিশি, তদন্ত ও অপরাধ বিজ্ঞান’ নিয়ে পড়তে যান কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে প্রথম দিকে তিনি মোটেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না।
“আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে থাকায় আমার ভয় হচ্ছিল- ইউনিভর্সিটিতে আমি হয়তো টিকতে পারব না।”
শেষ পর্যন্ত নাটালি ঠিকই পেরেছেন। স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছেন সেরা ফল দেখিয়ে। হয়েছেন বছরের সেরা শিক্ষার্থী।
“যখন আমার নাম বলা হলো, আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। কি বলব আমি বুঝতে পারছিলাম না। আবেগে আমার গলা বুজে আসছিল।
“আমি কখনো ভাবিনি- সবকিছু এতো ভালভাবে শেষ হবে। আমি কখনো ভাবিনি- লেখাপড়াকে আমি এতোখানি ভালবেসে ফেলব।”
নাটালি এখন অপরাধবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়বেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে। এই অধ্যায় শেষ হলে পিএইচডি করার ইচ্ছে রয়েছে তার।
স্কুল ছাড়ার পর ল্যাঙ্কাস্টারের সেই কিশোরীর ঠাঁই হয়েছিল কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে। স্নাতক পরীক্ষায় নাটালি পেয়েছেন ৯৫ শতাংশ নম্বর। অথচ ঘন ঘন নানা অপরাধে জড়িয়ে তাকে এতোবার জেলে যেতে হয়েছিল যে ১২ বছর বয়সে তাকে স্কুল থেকেই বের করে দেয়া হয়েছিল।
নাটালি জানান, ওই বয়সে তিনি অধিকাংশ অপরাধে জড়িয়েছিলেন অ্যালকোহলের প্রভাবে, মাতাল অবস্থায়। বার বার জেলে যাওয়ার দিনগুলোতে পুরো পৃথিবীর ওপরই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। ওই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন না।
তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট সহযোগিতাও তিনি সে সময় পাননি।
“যখনই আমাকে জেলে যেতে হয়েছে, তারা আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ দেখানোর চেষ্টা করেছে। কেন আমি ওসব করছি তা কেউ বোঝার চেষ্টা করেনি। অথচ আমি তখন কেবল একজন ক্ষুব্ধ কিশোরী।”
নাটালির ভাষায়, ভাল হওয়ার জন্য কোনো সহায়তা তিনি জেলখানায় পাননি। বরং জেলে থাকার দিনগুলোতে তিনি আরো বেশি হতাশা আর নেশায় ডুবেছেন, নিজের ক্ষতি করেছেন। শেষ পর্যন্ত যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তিনি নতুন করে জীবনে ফেরার কথা ভেবেছেন।
“বার বার একই ধরনের জটিলতায় জড়িয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, এসব অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে পারলে হয়তো তাদের উপকার হবে।”
এমনকি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়েও সংশয়ে ছিলেন নাটালি। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিমিনোলজি বিষয়টির সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং বিষয়টি তার প্যাশনে পরিণত হয়, কারণ ততোদিনে অপরাধ ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছুই তার জানা হয়ে গেছে।
দুর্বিষহ হয়ে ওঠা সেই জীবনকে পেছনে ফেলে নাটালি ‘পুলিশি, তদন্ত ও অপরাধ বিজ্ঞান’ নিয়ে পড়তে যান কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে প্রথম দিকে তিনি মোটেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না।
“আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে থাকায় আমার ভয় হচ্ছিল- ইউনিভর্সিটিতে আমি হয়তো টিকতে পারব না।”
শেষ পর্যন্ত নাটালি ঠিকই পেরেছেন। স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছেন সেরা ফল দেখিয়ে। হয়েছেন বছরের সেরা শিক্ষার্থী।
“যখন আমার নাম বলা হলো, আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। কি বলব আমি বুঝতে পারছিলাম না। আবেগে আমার গলা বুজে আসছিল।
“আমি কখনো ভাবিনি- সবকিছু এতো ভালভাবে শেষ হবে। আমি কখনো ভাবিনি- লেখাপড়াকে আমি এতোখানি ভালবেসে ফেলব।”
নাটালি এখন অপরাধবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়বেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে। এই অধ্যায় শেষ হলে পিএইচডি করার ইচ্ছে রয়েছে তার।

No comments:
Post a Comment