নিয়জ মোর্শেদ (শান্ত)
“আজকের
শিশূ মায়ের হাসিতে
হেসেছে, আমরা তার তরে
একটি সাজাবো বাগানটা”৷ আমারা
বাংলাদেশের নাগরিক৷ আমরা
গর্বিত বাঙালি৷ কি
নিয়ে গর্বিত আমরা৷
সামনে আমাদের জন্য
অপেক্ষা করছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ঈদ - উল - ফিতর৷
সিয়াম সাধনার পর
সবাই একসাথে আনন্দ
করে কাটাবে এই ঈদ-উল-ফিতরের
ঈদ৷ সবাই ব্যাস্ত হয়ে
পড়ছি আস্তে আস্তে
কেনাকাটার দিকে৷ বড়
ছোট আত্নীয়-স্বজন সবার জন্য
কেনাকাটা বাড়িতে দাওয়াত
দেবার জন্য৷ কিন্তু একবারও
কি ভেবে দেখেছি-পথের
ধুলোয় মিশে থাকা
একটি শিশুর কথা৷
একবারো কি ভেবে
দেখেছি বাড়ির পাশেই
না খেয়ে থাকা মা
হারা বা বাবা
হারা শিশুটির কথা৷
না ভাবি নি কারন
তার কথা কখনোও মাথায়
ছিলই না৷ কেননা
সকালে ঘুম থেকে
বের হয়ে কর্মস্থল৷ আর
কর্মস্থল থেকে বাড়ি
গিয়ে হয় শপিং
নয়ত সবার সাথে ঘরে
বসেই আনন্দ করা৷
কিন্তু একবার ও কি
ভেবে দেখি ওই
শিশুটি কেমন আছে৷
কেমন কাটবে তার
ঈদের দিনটি৷ আমরা
সবাই সকাল বেলা
গোসল করে ঈদের
নামাজ পড়ে সবাইকে
সালাম করে আনন্দ
করে সেমাই, পোলাও কোর্মা ইত্যাদি
নানা ধরনের খাবার
খাবো৷ আনন্দে মেতে
উঠবো সবাই৷ পথের
সেই নোংরা শিশুটি বা
পাশের বাড়ির সেই
এতিম শিশুটিকে নিয়ে
ভাবার সময় কোথায়
আমাদের৷ তারপর ও “আমরা বাঙালি, আমরা
গর্বিত বাঙালি”৷ ঈদের
দিন আমরা সবাই ভালো
ভালো পোষাক পরিধান
করব৷ কিন্তু পথের
শিশু বা একটি
এতিম শিশু কি
পারবে নতুন পিড়নী বা জামা
পড়তে৷ সে কি
পাড়বে একটু ভালো
খাবার খেতে৷ আমরা
তো সবাই পড়ি যাকাতের কথা বলতে,
ফিতরার কথা
বলতে৷ আমরা কি
পাড়ি না সেই
পথের শিশুটিকে একটি
জামা কিনে দিতে৷
আমরা কি পরি
না সেই পশের বাড়ির
এতিম শিশুটিকে ঈদের
দিন পাশে বসিয়ে একটু
খাবার খাওয়াতে৷ সবারই
তো মন চায়৷ একটু
কি পারি না তাদের
কে নিজের সন্তানের মত
ভাবতে৷ আমরা কি
পারি না তাদের
কে বুকে জড়িয়ে নিতে৷
কি হবে হয়তো নিজের
সন্তানের জন্য মার্কেট
থেকে নিয়ে যাব
দামি একটি জামা৷
কিন্তু তার জন্য
আর কিছু না পাড়ি
মাত্র ২০০ থেকে
৩০০ টাকার মধ্যে পাড়ব
না নতুন একটি জামা
কিনে দিতে৷ আমরা
তো কত টাকা কত
দিকে ফেলে দেই৷
কত দিকেই তো টাকা
নষ্ট হয়৷ আমরা
যদি একটি অসহায় শিশুকে
সাহায্য করি তবে
আমাদের কোন অংশে
কমে যাবে না৷ বরং
আমরা মানুষের কাছে
ভালো হবো৷ এবং
সবচেয়ে বড় কথা
আল্লাহর কাছে অনেক
প্রশংসিত হব৷ ঈদের
আনন্দ কি পার
না আমরা সবার সাথে
ভাগাভাগি করে নিতে৷
আসুন আমরা সবাই
মিলে এই পথের
শিশুদেরকে বুকে টেনে
নেই৷ এক দিনের
জন্য হলেও তাদের
মুখে হাসি ফুটিয়ে
তুলি৷ পথের শিশু
এতিম শিশুদের কে
একটু ঈদের আনন্দ
উপভোগ করারা সুযোগ
করে দেই৷ যাকাতের টাকা
বা ফিতরার টাকা তো
আমরা সদগা হিসেবেই
জানি৷ এই টাকাতো
আমরা নিজেদের পরিবারের
জন্য ব্যবহার করি
না৷ এমনও তা হতে
পারে আমাদের নিজেদের
আত্নীয়দের মধ্যেই আছে
এমন অনেকে যাদের হয়তো
আমরা বছরেও একবার
খবর নেই না৷ সে
হতে পারে আমার ভাই, বা
ভাগ্নে বা কোন
না কোন দুঃসম্পর্কের আত্নীয়৷
আমরা কি পারি
না আসন্ন ঈদ- উল- ফিতরে
তাদের কে এক
সাথে নিয়ে আনন্দ
করতে৷ তাদের মুখে
হাসি ফোঁটাতে৷ রাস্তা
দিয়ে যাবার পথে
একটি শিশুকে দেখতে
পেলাম খালিগায়ে রাস্তার
আইল্যান্ডের উপরে বসে
একটি ময়লা ছোট্ট
পলিথিনের ব্যাগে করে
সে মুড়ি খাচ্ছে৷ দেখতে
পাচ্ছি সে খাচ্ছে, তারপরও
তার কাছে গিয়ে তাকে
জিঙ্গাস করলাম তুমি
কি করছ? সে আমার দিকে
তাকিয়ে বলল আমায়, আমি
মুড়ি খাইতাছি৷ ওর
নাম রায়হান৷ ওর বাবা
নেই পৃথিবীতে৷ ওর মা
আছে৷ আর আছে
ছোট্ট একটা বোন৷
ওর মার এক সাইট
রোড এ্যাকসিডেন্U েঅবস
হয়ে গেছে৷ ওর কাছে
জানতে চাইলাম তুমি
কি কর? ও বলল আমি
রাস্তায় ফুল বিক্রি
করি৷ জানতে চাইলাম
ঈদের জন্য কি
কিছু কিনেছো৷ সে
বলল “সার এই কপাল তো আমগে নাই”৷
সে প্রায় কাদোঁ কাদোঁ কন্ঠেই বলল “যদি ঈদের আগে রাস্তায় ফুল বিক্রি কইরা মাহাজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা লইতে পারি তয় ছোট্ট বোইনডার লেগা একটা লাল জামা নিয়া জামু”৷
কথাটি শুনে আমার
নিজের চোখেও জ্বল
চলে আসলো৷ কিন্তু কি
করতে পারলাম তার
জন্য৷ কখনোও কি
পারবো তার চোখের
জ্বল মুছে দিতে৷
কখনোকি পাড়বো তাকে
বুকে টেনে নিতে৷
দয়া করে সবাই এটু
ভাবুন৷ যদি এই
শিশুটির কথাতে কারো
মনকে একটু ছুঁতে
পারে, কারো যদি এই
শিশুটির কথা নিজের
শিশুর মত মনে
হয়ে থাকে তবে এই
শিশুটির মত আসুন
সবাই কোন না
কোন শিশুকে একটু আনন্দ
করার সুযোগ করে
দেই৷ কারণ একটি
শিশুই দিতে পারবে
আমাদের কে একটি
জাতি৷ একটি ভবিষ্যত্৷ তাই সব শিশুদের
জন্য রইল আমাদের
পক্ষ থেকে অন্তিম
শুভেচ্ছা৷
No comments:
Post a Comment