পুষ্টি বিষয়ে আমাদের
নানা দুশ্চিন্তা রয়েছে। কিছু বিষয় আমরা মানি যা অন্যরা মেনে নিতে চান না। তাই
সঠিক তথ্য আসলে কোনটি সে বিসয়ে সবারই সন্দেহ থেকেই যায়। তাই বিশেষজ্ঞ এখানে ১৫টি
বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যা মাথায় রাখলে পুষ্টিকর খাবারের বিষয়ে কোনো দুশ্চিন্তা
থাকবে না।
১. মাংস কোলনে পচে না : বলা হয় মাংস দেহের কোলনে পচে। এটা পুরো ভুল তথ্য। পাকস্থলীতে এসিড এবং এনজাইমের দ্বারা ভেঙে যায়। বেশিরভাগটুকু অ্যামাইনো এসিড এবং ফ্যাটি এসিডে পরিণত হয়। মাংস হজমের জন্য আমাদের দেহের হজমের দারুণ পদ্ধতি রয়েছে। তাই কোলনে যদি পচতেই হয় তবে কিছু অপাচ্য উদ্ভিজ্জ খাবার পচে যা ফাইবার নামেও পরিচিত।
২. পশ্চিমা খাবারে রোগ বেশি থাকে : সাম্প্রতিক এভোলুশনারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পপুলেশনস এর গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের যেখানেই পশ্চিমা খাবার গেছে সেখানেই ক্রনিক রোগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু এসব পশ্চিমা খাবার বাদ দিয়ে যখন মানুষ চিনি, রিফাইন্ড আটা এবং প্রক্রিয়াজাত তেল খাওয়া শুরু করলো তখন ডায়াবেটিকের মতো রোগ দেখা দিলো। হৃদরোগ এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লো। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাপক হারে এসব রোগ দেখা দিয়েছে।
৩. মিডিয়ার যাবতীয় খবর ভুয়া : পুষ্টি বিষয়ে অধিকাংশ প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। মূলত এসব প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে দেওয়া হয়নি। বরং নানা পর্যবেক্ষণ থেকে দেওয়া হয়। তাই এসব ক্ষেত্রে ভুল থেকে যায়।
৪. প্রক্রিয়াজাত ভোজ্য তেল ক্ষতিকর : বীজ এবং উদ্ভিজ্জ প্রক্রিয়াজাত তেল স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। প্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তি আবিষ্কারের আগে মানুষ শত শত বছর যে সব তেল খেয়েছে তা কোনো ক্ষতি করেনি। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত তেলের ফ্যাটি এসিড এবং অন্যান্য উপাদান স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রক্রিয়াজাত তেলে ওমেগা-৬ এসিড রয়েছে যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
৫. প্রাকৃতিক মানেই স্বাস্থ্যকর নয় : অনেকেই ভাবেন প্রাকৃতিক মানে স্বাস্থ্যকর। এটা একটা ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক একটা সিরাপ রয়েছে যার নাম আগাভা নেকটার। এটি প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে জনপ্রিয় হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ পাওয়া গেছে যা ক্ষতিকর।
৬. ফ্যাট আপনাকে মোটা করে না : মনে করা হয় ফ্যাট খেলে তা দেহকে মোটা করে। আমাদের ত্বকের নিচে যে পদার্থটি নরম অংশ তৈরি করে তাই ফ্যাট। এতে প্রোটিন এবং তেল অপেক্ষা বেশি ক্যালোরি থাকে। এতে ক্ষতির মাত্রা থাকলেও এটি দেহকে মোটা করার জন্য দায়ী নয়।
৭. তেল দেহতে স্থূল করে না : অনেকেই ভাবেন যে তেল মোটা করে। এটি ভুল ধারণা। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তেল পরিহার করলে দেহে মোটা ভাব দেখা দেয়। অনেক মানুষ রয়েছেন যারা প্রচুর পরিমাণে তেলপূর্ণ খাবার খান, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মোটাভাব নেই।
৮. ওজন হারাতে প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : ওজন কমাতে প্রোটিনকে একমাত্র কার্যকর উপাদান বলে মনে করেন অনেকেই। কিছু গবেষণায় বলা হয়, ক্যালোরি বের করতে এবং ক্ষুধা দূর করে প্রোটিন। অথচ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ক্যালোরি প্রদান করে। প্রোটিন হিসেবে দিনে ৩০ শতাংশ ক্যালোরি খেলে তা অন্যান্য খাবারের চেয়ে ৪৪১ ক্যালোরি কম খাওয়া হবে।
৯. চিনি ধ্বংসের নামান্তর : বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, চিনিতে উপস্থিত উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ ক্রনিক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই চিনি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। আর চিনিপূর্ণ বেভারেজ আরো খারাপ। তরল চিনির ক্যালোরি মস্তিষ্ক গ্রহণ করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি দেওয়া এসব বেভারেজ শিশুদের স্থূলতার জন্য দায়ী। তা ছাড়া বিভিন্ন রোগের উৎসও এটি।
১০. নিজের সার্বিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল ভালো খাবার : আসলে নিজের বয়স, লিঙ্গ, জীবনীশক্তির মাত্রা, বিপাক ক্রিয়া, রুচি এবং খাদ্যাভাসের ওপর নির্ভর করে আপনার খাবার বেছে নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
১১. ডায়াটরি কোলেস্টরেল ক্ষতিকর নয় : অতীতে ডায়াটরি কোলেস্টরেল এবং সম্পৃক্ত ফ্যাট পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। নিম্নমাত্রার ফ্যাট কোনো কাজের নয় এবং হৃদরোগ বা ক্যান্সার রোধ করে না- এমন তথ্য পাওয়া গেছে আধুনিক গবেষণা থেকে।
১২. তৈরিকৃত খাবারের লেবেলে বিশ্বাস করবেন না : দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠনগুলো খাবারের যাবতীয় সত্য তথ্য লেবেলে তুলে ধরে না। গোটা খাবারের যে পুষ্টি উপাদানের কথা উল্লেখ থাকে তা সব সময় সত্য থাকে না।
১৩. ক্যালোরির হিসেব করে লাভ নেই : ক্যালোরি হিসেব করে ওজন কমাতে পারবেন না। এটা সত্যি যে, ক্যালোরি গ্রহণের চেয়ে ত্যাগের পরিমাণ বেশি হওয়া প্রয়োজন। ক্যালোরি খরচের নানা উপায় রয়েছে। তা ছাড়া প্রোটিন খাওয়া এবং ফাইবারপূর্ণ খাবারের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ করা যায়।
১৪. ফ্যাটমুক্ত খাবার ভালো নয় : ফ্যাট থেকে বাঁচতে ফ্যাটমুক্ত খাবার বাজারে আনছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এগুলো বিস্বাদ লাগে। তাই একেবারে প্রোটিনবিহীন খাবার মুখে দিতে পারবেন না।
১৫. সলিড খাবার ভালো কিন্তু প্রক্রিয়াজাত নয় : স্বাস্থ্যকর খাবারের পুষ্টি উপাদান আলাদা করা সহজ কাজ নয়। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার স্রেফ খেয়ে যেতে হবে। এ সব খাবারের চেহারা যেমনই হোক, প্রক্রিয়াজাত সুন্দর খাবার অপেক্ষা এগুলো অনেক ভালো। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
১. মাংস কোলনে পচে না : বলা হয় মাংস দেহের কোলনে পচে। এটা পুরো ভুল তথ্য। পাকস্থলীতে এসিড এবং এনজাইমের দ্বারা ভেঙে যায়। বেশিরভাগটুকু অ্যামাইনো এসিড এবং ফ্যাটি এসিডে পরিণত হয়। মাংস হজমের জন্য আমাদের দেহের হজমের দারুণ পদ্ধতি রয়েছে। তাই কোলনে যদি পচতেই হয় তবে কিছু অপাচ্য উদ্ভিজ্জ খাবার পচে যা ফাইবার নামেও পরিচিত।
২. পশ্চিমা খাবারে রোগ বেশি থাকে : সাম্প্রতিক এভোলুশনারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পপুলেশনস এর গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের যেখানেই পশ্চিমা খাবার গেছে সেখানেই ক্রনিক রোগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু এসব পশ্চিমা খাবার বাদ দিয়ে যখন মানুষ চিনি, রিফাইন্ড আটা এবং প্রক্রিয়াজাত তেল খাওয়া শুরু করলো তখন ডায়াবেটিকের মতো রোগ দেখা দিলো। হৃদরোগ এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লো। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাপক হারে এসব রোগ দেখা দিয়েছে।
৩. মিডিয়ার যাবতীয় খবর ভুয়া : পুষ্টি বিষয়ে অধিকাংশ প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। মূলত এসব প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে দেওয়া হয়নি। বরং নানা পর্যবেক্ষণ থেকে দেওয়া হয়। তাই এসব ক্ষেত্রে ভুল থেকে যায়।
৪. প্রক্রিয়াজাত ভোজ্য তেল ক্ষতিকর : বীজ এবং উদ্ভিজ্জ প্রক্রিয়াজাত তেল স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। প্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তি আবিষ্কারের আগে মানুষ শত শত বছর যে সব তেল খেয়েছে তা কোনো ক্ষতি করেনি। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত তেলের ফ্যাটি এসিড এবং অন্যান্য উপাদান স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রক্রিয়াজাত তেলে ওমেগা-৬ এসিড রয়েছে যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
৫. প্রাকৃতিক মানেই স্বাস্থ্যকর নয় : অনেকেই ভাবেন প্রাকৃতিক মানে স্বাস্থ্যকর। এটা একটা ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক একটা সিরাপ রয়েছে যার নাম আগাভা নেকটার। এটি প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে জনপ্রিয় হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ পাওয়া গেছে যা ক্ষতিকর।
৬. ফ্যাট আপনাকে মোটা করে না : মনে করা হয় ফ্যাট খেলে তা দেহকে মোটা করে। আমাদের ত্বকের নিচে যে পদার্থটি নরম অংশ তৈরি করে তাই ফ্যাট। এতে প্রোটিন এবং তেল অপেক্ষা বেশি ক্যালোরি থাকে। এতে ক্ষতির মাত্রা থাকলেও এটি দেহকে মোটা করার জন্য দায়ী নয়।
৭. তেল দেহতে স্থূল করে না : অনেকেই ভাবেন যে তেল মোটা করে। এটি ভুল ধারণা। বরং অনেক ক্ষেত্রেই তেল পরিহার করলে দেহে মোটা ভাব দেখা দেয়। অনেক মানুষ রয়েছেন যারা প্রচুর পরিমাণে তেলপূর্ণ খাবার খান, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মোটাভাব নেই।
৮. ওজন হারাতে প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : ওজন কমাতে প্রোটিনকে একমাত্র কার্যকর উপাদান বলে মনে করেন অনেকেই। কিছু গবেষণায় বলা হয়, ক্যালোরি বের করতে এবং ক্ষুধা দূর করে প্রোটিন। অথচ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ক্যালোরি প্রদান করে। প্রোটিন হিসেবে দিনে ৩০ শতাংশ ক্যালোরি খেলে তা অন্যান্য খাবারের চেয়ে ৪৪১ ক্যালোরি কম খাওয়া হবে।
৯. চিনি ধ্বংসের নামান্তর : বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, চিনিতে উপস্থিত উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ ক্রনিক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই চিনি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। আর চিনিপূর্ণ বেভারেজ আরো খারাপ। তরল চিনির ক্যালোরি মস্তিষ্ক গ্রহণ করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি দেওয়া এসব বেভারেজ শিশুদের স্থূলতার জন্য দায়ী। তা ছাড়া বিভিন্ন রোগের উৎসও এটি।
১০. নিজের সার্বিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল ভালো খাবার : আসলে নিজের বয়স, লিঙ্গ, জীবনীশক্তির মাত্রা, বিপাক ক্রিয়া, রুচি এবং খাদ্যাভাসের ওপর নির্ভর করে আপনার খাবার বেছে নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
১১. ডায়াটরি কোলেস্টরেল ক্ষতিকর নয় : অতীতে ডায়াটরি কোলেস্টরেল এবং সম্পৃক্ত ফ্যাট পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। নিম্নমাত্রার ফ্যাট কোনো কাজের নয় এবং হৃদরোগ বা ক্যান্সার রোধ করে না- এমন তথ্য পাওয়া গেছে আধুনিক গবেষণা থেকে।
১২. তৈরিকৃত খাবারের লেবেলে বিশ্বাস করবেন না : দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠনগুলো খাবারের যাবতীয় সত্য তথ্য লেবেলে তুলে ধরে না। গোটা খাবারের যে পুষ্টি উপাদানের কথা উল্লেখ থাকে তা সব সময় সত্য থাকে না।
১৩. ক্যালোরির হিসেব করে লাভ নেই : ক্যালোরি হিসেব করে ওজন কমাতে পারবেন না। এটা সত্যি যে, ক্যালোরি গ্রহণের চেয়ে ত্যাগের পরিমাণ বেশি হওয়া প্রয়োজন। ক্যালোরি খরচের নানা উপায় রয়েছে। তা ছাড়া প্রোটিন খাওয়া এবং ফাইবারপূর্ণ খাবারের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ করা যায়।
১৪. ফ্যাটমুক্ত খাবার ভালো নয় : ফ্যাট থেকে বাঁচতে ফ্যাটমুক্ত খাবার বাজারে আনছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এগুলো বিস্বাদ লাগে। তাই একেবারে প্রোটিনবিহীন খাবার মুখে দিতে পারবেন না।
১৫. সলিড খাবার ভালো কিন্তু প্রক্রিয়াজাত নয় : স্বাস্থ্যকর খাবারের পুষ্টি উপাদান আলাদা করা সহজ কাজ নয়। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার স্রেফ খেয়ে যেতে হবে। এ সব খাবারের চেহারা যেমনই হোক, প্রক্রিয়াজাত সুন্দর খাবার অপেক্ষা এগুলো অনেক ভালো। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

No comments:
Post a Comment