Friday, July 18, 2014

লামের বিদায়


মঞ্চ থেকে একটা সময়ে সবারই বিদায় নিতে হয়—জগতে এটাই অমোঘ রীতি। জার্মান অধিনায়ক ফিলিপ লামও নিলেন। এর চেয়েও দারুণ প্রস্থান কজনার হয়! কদিন আগেই জিতলেন বিশ্বকাপ শিরোপা। ফর্মের তুঙ্গে থেকে, সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন লাম। অবশ্য জার্মান অধিনায়কের এমন আকস্মিক বিদায়ে ভক্ত-সমর্থকেরা অবাকই হয়েছেন। জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও বায়ার্ন মিউনিখে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। খবর এএফপি, রয়টার্স।
বয়স এখনো ৩০-এর কোটা পার হয়নি। সমবয়সী অনেক খেলোয়াড়ই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে লামের মনে হয়েছে এটিই উপযুক্ত সময়। জার্মান অধিনায়ক তাঁর এজেন্ট রোমান গ্রিলকে বলেছেন, ‘আমার জন্য এটিই উপযুক্ত সময় (শিরোপা বিজয়ের পর)। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ব্রাজিল বিশ্বকাপই হবে আমার শেষ টুর্নামেন্ট।’
জার্মান অধিনায়ক যেন দলের নিউক্লিয়াস। গোটা দলকে এক সুতোয় গেঁথে তছনছ করেন প্রতিপক্ষের স্বপ্ন-সাধ। মাঠে লাম থাকা মানে জার্মান দলের পালে দুরন্ত হাওয়া! সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল মনোয়নের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের এ তারকা খেলেছেন ১১৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গোল করেছেন পাঁচটি। জার্মান এ ফুলব্যাকের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০০৪ সালে, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) প্রেসিডেন্ট ভলফগাংগ নেইর্সবাখ বলেছেন, ‘ফিলিপ (লাম) ব্যক্তিগতভাবে সকালে খবরটি আমাকে জানিয়েছে। বুঝতে পারলাম, আমাদের দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ওর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করানো আমার পক্ষে অসম্ভব। গত ১০ বছর জাতীয় দলে সে কেবল অসাধারণ খেলোয়াড়ই ছিল না, একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রোল মডেল। ডিএফবির জন্য সে যা করেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
এদিকে বায়ার্ন চেয়ারম্যান কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে বলেছেন, ‘জাতীয় দলে ওর মতো একজন খেলোয়াড়, অধিনায়ক বা মানুষের বিকল্প পাওয়া কঠিন।’ বায়ার্নের সঙ্গে লামের চুক্তি ২০১৮ সাল পর্যন্ত। হয়তো এ সময়ে ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন জার্মান অধিনায়ক।


No comments:

Post a Comment