Wednesday, July 16, 2014

গাজার নাগরিকদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি


ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলের প্রায় এক লাখ বাসিন্দাকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। বুধবার সামরিক সূত্র একথা জানায়।এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, গাজা সিটির পার্শ্ববর্তী জিতুনে বিমান থেকে বিভিন্ন লিফলেট ফেলা হয়েছে। এসব লিফলেটে ওই এলাকার লোকজনকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। তাদেরকে এলাকা ছেড়ে যেতে গ্রিনিচ মান সময় ০৫০০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


বিমান থেকে ফেলা এসব লিফলেটে বলা হয়, জিতুন ও শুজাইয়া এলাকায় সক্রিয় সন্তাসিদের অবস্তান লক্ষ্যকরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালাবে। কেননা, ইসরাইল ভূ-খণ্ড লক্ষ্যকরে এ দুই এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট হামলা চালানো হয়।
গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লহিয়া এলকার বাসিন্দাদেরও একই ধরণের বার্তা দেয়া হয়।


পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরবাড়িতে ফিরে না আসতে বাসিন্দাদের হুঁশিয়ারি করে দিয়ে এবস লিফলেটে বলা হয়, 'আপনাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই আপনাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে।' রবিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বেইত লহিয়ায় একই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়েছে।
গাজায় ইসরাইলি অভিযান শুরুর নবম দিনে এধরনের হুঁশিয়ারি দেয়া হলো।গত ৮ জুলাই থেকে গাজার জঙ্গিরা ইসরাইল ভূ-খণ্ড লক্ষ্যকরে প্রায় এক হাজার বার রকেট হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় জঙ্গিদের বিভিন্ন অবস্তান লক্ষ্যকরে প্রায় দেড় হাজার বার হামলা চালায়।


ফিলিস্তিনি হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলের সামরিক হামলায় ২০৫ জন নিহত হয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী এলাকা ইরিজে গাজার রকেট হামলায় এই প্রথম একজন ইসরাইলি নাগরিক নিহত হয়েছে।বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার মিসরের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরায়েল গ্রহণ করলেও হামাস তা প্রত্যাখ্যান করে।এর পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর গতকাল দুপুরের পর গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল।


আজ সকালে গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, 'যখন কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, আমাদের জবাব হামলা।'গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু।


গাজায় ইসরাইলের টানা আট দিনের প্রায় একতরফা সামরিক অভিযানের পর মিসর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ইসরাইল সরকার বেঁধে দেওয়া সময়ের সামান্য আগে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে হামলা বন্ধ করে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেয়, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তার জবাব হবে কঠিন। প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের আওতা বাড়ানো হবে।
হামাস এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে বলেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটি তাদের জন্য আত্মসমর্পণের সমতুল্য। হামাস পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তি ছাড়া রকেট হামলা বন্ধ করবে না। এই অবস্থায় গতকাল বেলা তিনটার দিকে ইসরাইল আবার বিমান হামলা চালানো শুরু করে।


ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরাইলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরাইল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে এমন দাবি তুলে 'অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ' শুরু করে ইসরাইল।


No comments:

Post a Comment