Thursday, March 20, 2014

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মুরাদকে


স্টাফ রিপোর্টার-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রায় ১৯ বছর পর চাঞ্চল্যকর ওই মামলার অন্যতম আসামি মুরাদ বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কব্জায় এলো। 

১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি নাজমুল মাকসুদ মুরাদ। বুধবার দুপুর ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

সিআইডি পুলিশ বলেছে, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা ছাড়াও ১৯৯৫ সালের ১৫ অক্টোবর পূর্ব বাসাবোতে পলাশ নামে এক যুবককে হত্যা এবং ওই বছরে শাহজাহানপুরে চাঁদার দাবিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। এই তিনটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। 

বুধবার বিকালে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্রে নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা চালায়। 

তারা একযোগে গুলি চালিয়ে ও বোমা ফাটিয়ে ‘কর্নেল ফারুক জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে চলে যায়। ওই সময় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য হাবিলদার জহিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাকির হোসেন পাল্টা গুলি চালায়। এ ঘটনায় হাবিলদার জহিরুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন। ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্র“য়ারি সিআইডি’র তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার খালেক উজ্জামান ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন। 

ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। এই ১৬ জন আসামি হলেনÑ লে. কর্নেল (অব.) ফারুক রহমান (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর), লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রশিদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর), রেজাউল ইসলাম খান ওরফে ফারুক ওরফে ফারুক রেজা, হুমাউন কবীর (জামিনে মুক্ত), গাজী লিয়াকত ওরফে কালা লিয়াকত, মিজানুর রহমান (জামিনে মুক্ত), জর্জ, শাজাহান ওরফে বালু (জামিনে মুক্ত), গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল (২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত), জাফর আহমেদ মানিক (২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত), নাজমুল মাকসুদ মুরাদ, গাজী ইমাম হোসেন ওরফে ইমাম (২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত), হুমায়ুন কবীর (জামিনে মুক্ত) ও খন্দকার আমিরুল ইসলাম ওরফে কাজল (জামিনে মুক্ত)। মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক ছিলেন নাজমুল মাকসুদ মুরাদ। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ বলেন, আসামিদের মধ্যে জর্জ, গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন ও ফ্রিডম সোহেল গ্রেফতার রয়েছেন। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়।

২৭ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। পরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আবারও ঝুলে যায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুরাদ ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে গ্রেফতার হওয়ার পর ওই বছরের ৩ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পালিয়ে যান। তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে তিনি বসবাস করে আসছেন। 

আবদুল কাহহার আকন্দ বলেন, মুরাদ ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ ইস্যু করে ইন্টারপোলের সহযোগিতা কামনা করে সিআইডি। এর পরিপ্রেক্ষিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ২ ফেব্র“য়ারি আমেরিকার আটলান্টা শহর থেকে মুরাদকে গ্রেফতার করে। পরে বিভিন্ন আইনি জটিলতা শেষে বুধবার মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমানে করে এনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ মুরাদকে সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

No comments:

Post a Comment