আন্তর্জাতিক ডেস্ক -
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটির নির্দিষ্ট যাত্রাপথ থেকে সরিয়ে পশ্চিম দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি কম্পিউটার থেকে। আর এটি করা হয়েছে বিমানটির ককপিট থেকেই।
বিমান চালাতে সক্ষম এমন ব্যক্তির পক্ষেই এটি করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তারা জানান, বিমানের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে তাঁরা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিই বেছে নেন এবং ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসারদের মাঝে হাঁটু বরাবর থাকা কম্পিউটারে সাত-আটটি অক্ষর চেপে তাঁরা বিমানটি ঘুরিয়ে দেন।
কম্পিউটারনিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে, বিমান উড্ডয়নের আগেই বিমানের গতিপথের প্রতিটি স্থানের নির্দেশনা দিতে হয়। তবে বিমানটি উড্ডয়নের আগে না পরে এই গতিপথের নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়েছিল, তা পরিষ্কার নয়।
প্রথম দিকে মালয়েশীয় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে তাদের সন্দেহের তির ছিল বিমানের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসারের দিকে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য তদন্তকারীদের সন্দেহকে আরও জোরালো করে তুলবে।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর মালয়েশিয়ার পত্রিকা ‘বেরিতা হারিয়ানে’ প্রকাশিত খবরে দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান রোদজালি দাউদ জানান, মালাক্কা প্রণালির প্রান্তে পুলাউ পেরাক দ্বীপের কাছে রাডারে শেষবারের মতো বিমানটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। সামরিক বাহিনীর রাডারে আরও দেখা গেছে, এ সময় বিমানটি আগের চেয়ে এক হাজার মিটার কম উচ্চতায় উড়ছিল।
গত ৭ মার্চ শুক্রবার মধ্যরাতে ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিংগামী ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ হয়। ভিয়েতনামের দক্ষিণে জলসীমায় যাওয়ার পর রহস্যজনকভাবে বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয়। এতে মোট ১৪টি দেশের ২৩৯ জন আরোহী ছিলেন। সবচেয়ে বেশি ১৫৩ জন আরোহী ছিলেন চীনের।

No comments:
Post a Comment